আরিফুল ইসলাম রনক
নওগাঁর ১১টি উপজেলার মধ্যে ছয়টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষা ক্ষেত থেকে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কেজি মধু আহরণের প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ। সরিষার আবাদ বৃদ্ধি এবং মধু থেকে বাড়তি আয়ের সম্ভাবনার কারণে জেলায় মৌ বাক্সে মধু আহরণ কার্যক্রম দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর নওগাঁ জেলায় ৫৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিক উৎপাদনকারী ছয়টি উপজেলায় ৭৭ জন মাওয়াল ৬ হাজার ২৫টি মৌ বাক্স স্থাপন করে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছেন। হলুদে মোড়া বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেতজুড়ে সারি সারি মৌ বাক্স স্থাপন করে প্রতি সপ্তাহে একবার করে মধু আহরণ করা হচ্ছে।
সরিষা ফুলের পাশে স্থাপিত এসব মৌ বাক্স থেকে উৎপাদিত মধু স্থানীয় বাজারে খুচরা ও পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির কাছেও সরবরাহ করা হচ্ছে এই মধু। ক্রেতাদের ভাষ্যমতে, সরিষা ফুলের মধু অত্যন্ত সুস্বাদু, ঘন ও নির্ভেজাল হওয়ায় এর চাহিদা তুলনামূলক বেশি।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সরিষা ফুল থেকে মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করার ফলে পরাগায়ন প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে সরিষার ফলনে। এতে সরিষা চাষিরা একদিকে ভালো ফলন পাচ্ছেন, অন্যদিকে মৌ চাষিরাও হচ্ছেন আর্থিকভাবে লাভবান।
উপজেলা পর্যায়ে মধু আহরণ কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করছে কৃষি বিভাগ। মান্দা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ শায়লা শারমিন বলেন, “সরিষা ক্ষেতে মৌ বাক্স স্থাপনের ফলে পরাগায়ন বাড়ছে, যা সরাসরি ফসল উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।”
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছাঃ হোমায়রা মন্ডল জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কেজি মধু উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
তিনি আরও বলেন, “মধু উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষি খাতে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে।”
সচেতন মহলের মতে, জেলার বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেতে আরও অধিক পরিমাণে মৌ বাক্স স্থাপন করা গেলে মধু উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি মৌ চাষকে ঘিরে টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।


