প্রাইভেট পড়ানোর সময় ছাত্রীদের অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে শরীরে স্পর্শ এবং প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় ফেল করানোর ভয় দেখানোর অভিযোগে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে এক শিক্ষককে বেদম মারধর করেছেন কয়েকজন অভিভাবক।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বাইমাইলের কবি নজরুল উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষক কুদ্দুস মোল্লা ওই বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক। বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগকারী নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মা বলেন, প্রতিদিন সকালে মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতে পাঠাতেন। সেখানেই শিক্ষক খারাপভাবে শরীর স্পর্শ করতেন। কাঁদতে কাঁদতে মেয়ে বিষয়টি জানালে অভিভাবকরা প্রতিবাদে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একই অভিযোগ করেছেন আরও দুইজন অভিভাবক।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক কুদ্দুস মোল্লা বলেন, “আমার কাছে ৫৭ জন ছাত্রী পড়ে। তাদের মধ্যে দুজন ছাড়া কারও অভিযোগ নেই। আমি কেবল কয়েকজনকে শাসন করেছি, কারণ তারা ছেলেদের সঙ্গে প্রেম করছিল।”
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব জানান, অভিযোগ নিয়ে অভিভাবকরা আলোচনা করতে এসেছিলেন। কথা বলার এক পর্যায়ে কয়েকজন হঠাৎ শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষককে টেনে বের করে মারধর করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অভিভাবক হাসমত মেম্বার বলেন, “শিক্ষক স্কুলের চেয়ে বাড়ির কোচিং ব্যবসায় বেশি সময় দেন। প্রাইভেট না পড়লে খারাপ ব্যবহার করেন। তার আরও নানা অভিযোগ রয়েছে।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ বি এম হান্নান বলেন, অভিযোগের তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে। আগামীকালই মিটিং ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দেওয়ান রফিকুল ইসলাম বলেন, “একপক্ষ অভিযোগ তুলেছে, অন্যপক্ষ অস্বীকার করছে। তদন্তের পরই সত্য জানা যাবে।”


