
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর রাণীনগরে চলতি বছরের রবি মৌসুমে উপজেলার মাঠে মাঠে আগাম জাতের সরিষার ফুলে ফুলে মাঠ জুড়ে হলুদের সমারোহ। আগাম জাতের সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে অন্যান্য সাথী ফসলের পাশাপাশি সরিষা গাছের হলুদ ফুলের সমারোহে ঢেকে গেছে পুরো মাঠ।
বিশেষ করে মিরাট ইউনিয়নের আতাইকুলা মৃধাপাড়া এলাকায় যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় সরিষার হলুদ ফুল দেখে কৃষকের মুখে হাসি ফুটছে ভালো ফলনের আশায়। এই সরিষা বিক্রি করে অনেক কৃষক ইরি-বোরা ধান চাষের দিকে ঝুঁকে পরবে। গত রোপা-আমন মৌসুমে এই উপজেলায় দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ফলন বিপর্যয় হয়েছে।এই ক্ষতি পুষে নিতে কৃষকরা এবার কিছুটা আগেই ইরি-বোরা ধান চাষে মনযোগ দিবে এমনটাই বলছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ।
জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ৪হাজার ৬শ’ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ মাত্রা নিধারণ করা হয়েছে। ইতি মধ্যে মাঠ পর্যায়ে সরিষা বপন শেষের পথে। তবে এলাকা ভিত্তিক কিছু কৃষক আগেই জমি চাষের উপযোগী হওয়ায় আগাম জাতের সরিষা বপন করায় উপজেলার বিভিন্ন মাঠে সরিষা ফুলের সমারহ দেখা যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে ৪হাজার ২শ’জন কৃষককে সরিষা চাষের জন্যআগাম ও উন্নত জাতের বীজ এবং রাসায়নিক সার উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বিনা মূল্যে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়। এই সমস্ত কৃষকরা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল এবং বিশেষ উচুঁ জমিতে আগাম জাতের সরিষা গুলো অনেক ভালো হয়েছে। ফুল ধরার শেষ পর্যায়ে পৌঁছেচে। আর কিছু দিনের মধ্যে ফল ধরা শুরু হবে এমনটাই আশা করছে কৃষকরা।
উপজেলার আতাইকুলা গ্রামের সরিষা চাষি তাপস মৃধা জানান, হাট-বাজারে ধান বা অন্যান্য ফসলের চেয়ে সরিষার দাম ভালো। তাছাড়া সরিষা চাষে খরচ কম লাভ বেশি হওয়ায় অধিকাংশ কৃষকের মতো আমিও নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর তীরে পলি জমিতে আগাম জাতের ২বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। ইতিমধ্যে সরিষার ব্যাপক ফুল আসছে। শেষ মহুর্তে আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো ফলনের আশা করছি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত সব এলাকায় সরিষা বপন শেষ হয়নি। তবে এলাকা ভেদে বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী এলাকায় পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ফাকা জমিতে কৃষকরা কিছু আগাম জাতের সরিষা বপন করেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আমাদের সঠিক পরামর্শে কিছু চাষিরা সঠিক সময়ে জমির পরিচর্যাসহ রাসায়নিক সার প্রয়োগ করায় চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলছেন এই কর্মকর্তা।