ডেস্ক রিপোর্টঃ
নওগাঁ মহাদেবপুরে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের আঘাতে আব্দুল হামিদ (৬৬) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মহাদেপুর উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল হামিদ এমরান হোসেন নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামির বাবা। পুলিশের দাবি, এমরান হোসেনের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁরা আব্দুল হামিদকে মারধর করেননি। এমরান হোসেনকে ধরার জন্য ওই বাড়িতে তাঁরা অভিযান চালিয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু এমরানকে না পেয়ে ওই গ্রামের অন্য আসামি এসলামের বাড়ির দেখিয়ে দেওয়ার জন্য আব্দুল হামিদকে ডেকেছিলেন। সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আব্দুল হামিদ মারা যান।
পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা যায়, মহাদেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আছির উদ্দিনের পুলিশের একটি দল গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি আব্দুল হামিদের ছেলে এমরান হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে বুধবার মধ্যরাতে মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এমরান হোসেন পালিয়ে যায়। তাঁকে না পেয়ে পুলিশ তাঁর বাবা আব্দুল হামিদকে ধরে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের এক সদস্য আব্দুল হামিদকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। সেখানে ওঠার চেষ্টা করলে আবারও পড়ে যান এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
আব্দুল হামিদের বৃদ্ধা মা হালিমা বেওয়া (৮৫) বলেন, তাঁর ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার জন্য পুলিশের পা ধরেছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাকেও ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। পুলিশ সদস্যরা বাড়ির দরজা ভেঙে আব্দুল হামিদকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আব্দুল হামিদ তাঁদের সঙ্গে যেতে না চাইলে এক পুলিশ সদস্য তাঁকে লাথি মারলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। ছেলের মৃত্যুর বিচার দাবি করেন বৃদ্ধা হালিমা।
আব্দুল হামিদের নাতি রিপন জানায়, রাতে তাঁরা দাদা-নাতি এক ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন, মধ্যরাতে ৫ জন পুলিশ এসে তার দাদাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তার দাদাকে লাথি মারলে পুলিশের লাথিতে তার দাদা মাটিতে পড়ে যায়। সেখান থেকে ওঠার চেষ্টা করে আবারও পরে যায় এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ওই গ্রামের মৃত ধলা বক্সের ছেলে এসলাম জানান, রাত ১টার দিকে কয়েকজন পুলিশ তাঁর বাড়িতে ঢুকে তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে জানিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেন। এ সময় আইডি কার্ডের সাথে তাঁর নামের বানানের মিল না থাকায় তাঁকে আদালত থেকে জামিনের পরামর্শ দেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাতুন মাস্টার পুলিশের সাথে থেকে তাঁদেরকে ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জহুরুল ইসলাম ও সিরাতুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তাঁরা পুলিশের সাথে ছিলেন না।
মহাদেবপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম পুলিশে বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘পুলিশ আসামি ধরতে গিয়েছিল ঠিকই কিন্তু নামের মিল না থাকায় আসামি এসলামকে ছেড়ে দেওয়া হয়, অন্য আসামি ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁকে না পেয়ে অন্য আসামী এসলামের বাড়ি দেখানোর জন্য আব্দুল হামিদকে ডেকেছিলেন। সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আব্দুল হামিদ মারা যান। পুলিশ তাকে কোন আঘাত করেননি।’
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, আব্দুল হামিদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তারপরও পুলিশের বিরুদ্ধে যদি কোন অভিযোগ থাকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।


