গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিয়ের দাবিতে ভাতিজার বাড়িতে ছয় দিন ধরে অবস্থান নিয়েছেন এক বিবাহিত নারী, যিনি দুই সন্তানের জননী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ছাপড়হাটি ইউনিয়নের উত্তর মরুয়াদহ গ্রামের ব্যাপারীপাড়ায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, আর ঘটনাটির ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই নারীর সঙ্গে ভাতিজা আব্দুল আজিজের (২০) দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আজিজ তার স্বামীর চাচাতো ভাই মো. গণি মোল্লার ছেলে। একই এলাকায় থাকার সুযোগে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এর আগেও ওই নারী বিয়ের দাবিতে মোল্লা বাড়িতে গিয়েছিলেন, তবে তখন তাকে ফেরত পাঠানো হয়। এবার তিনি অনশন শুরু করলে প্রেমিক আজিজ পালিয়ে যান।
ঘটনার তৃতীয় দিনেই ওই নারীকে তালাক দিয়েছেন তার স্বামী। এরপর থেকে তিনি আজিজের বাড়িতেই অবস্থান করছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির সামনে স্থানীয়দের ভিড় জমেছে, কিন্তু আজিজ পরিবারের সদস্যরা গেট বন্ধ করে রেখেছেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ওই নারী বলেন, “প্রেমিক ভাতিজার হাত ধরে আমাকে বাড়ি থেকে বের করা হয়েছিল। পরে সে আমাকে অভয় দিয়ে তার বাড়িতে পাঠায়।”
আজিজের এক আত্মীয় জানান, “ওই নারী এখনো বাড়িতে আছেন, কিন্তু আমাদের কেউ ভেতরে ঢুকতে পারছি না। আজিজের বাবা কাউকে প্রবেশ বা কথা বলার অনুমতি দেননি।”
স্থানীয়রা জানান, শনিবার থেকে ওই নারী বাড়িতে অবস্থান করছেন। ঘটনাটি নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আজিজ পরিবারের যাতায়াতের পথও বন্ধ করে দিয়েছে।
ছাপড়হাটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আনছার আলী বলেন, “মহিলার সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের সম্পর্ক দুই-তিন বছর ধরে। শনিবার থেকে তিনি বাড়িতে আছেন, কিন্তু ছেলেটি পালিয়ে গেছে।”
এ বিষয়ে ছাপড়হাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কুমার গোস্বামী বলেন, “আমি বিষয়টি এখনও জানি না। কেউ আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেননি, তাই এখনই মন্তব্য করতে পারছি না।”


