
সাগর মিয়া, রংপুরঃ
রংপুর মহানগর এলাকায় নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কর্তৃক জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রতিবাদে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা প্রশাসন নির্বাহী আদেশে প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ না করলে হরতাল ও অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ লিখিত বক্তব্যে এই আল্টিমেটাম দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নীপেন্দ্রনাথ রায়, এবিএম মসিউর রহমান, আব্দুল হামিদ বাবু, মাহফুজার হোসেন, মেহেদী হাসান তরুণ, রেদোয়ান ফেরদৌস, সুবাস বর্মনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে পলাশ কান্তি নাগ অভিযোগ করেন, গ্রাহকদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও নেসকো নানা কৌশল ও জবরদস্তির মাধ্যমে বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করছে।
তিনি জানান, পূর্ববর্তী জেলা প্রশাসক আন্দোলনের মুখে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধের নির্দেশ দিলেও নেসকো সেই নির্দেশ অমান্য করে আবারও জোরপূর্বক সংযোগ দিচ্ছে। গ্রাহকদের মতামত গ্রহণ, গণশুনানি আয়োজন বা আলোচনার কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।
প্রিপেইড মিটারকে বিদ্যুৎ আইনের পরিপন্থি দাবি করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ আইন ২০০৩-এর ৫৬ ধারা অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্নের আগে ১৫ দিনের নোটিশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রিপেইড মিটারে ব্যালেন্স শেষ হলেই কোনো নোটিশ ছাড়াই সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, এ ব্যবস্থায় গ্রাহকদের প্রায় ৩০% অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতি হবে—প্রতি ১,০০০ টাকা রিচার্জে ২০ টাকা এজেন্ট কমিশন, মাসে ৪০ টাকা মিটার ভাড়া, ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স ২০০ টাকা নিলে ৫০ টাকা সুদ এবং মিটার লক হলে ৬০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। এছাড়া গ্রাহকরা পূর্বে নিজস্ব অর্থে অ্যানালগ ও ডিজিটাল মিটার কিনলেও বিদ্যুৎ বিভাগ কখনো সেই অর্থ ফেরত দেয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বিদ্যুৎ খাতের অতীত অনিয়ম-দুর্নীতির কথাও তুলে ধরেন।
তারা বলেন, বিগত সরকার রেন্টাল-কুইক রেন্টালের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই বেসরকারি কোম্পানিগুলো গত ১০ বছরে ৫১ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা পেয়েছে—যার বোঝা বহন করেছে সাধারণ জনগণ। অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ দাবি করে নেতৃবৃন্দ ঘোষণা দেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে রংপুরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে নাগরিক কমিটি।