
জনপ্রিয় নারী উদ্যোক্তা ও ইনফ্লুয়েন্সার রোবাইয়াত ফাতিমা তনি আবারও আলোচনায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তার তৃতীয় বিয়ের খবর। কেউ অভিনন্দন জানাচ্ছেন, কেউবা তুলেছেন প্রশ্ন। সমালোচনা ও সমর্থনের এই মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তনি।
চলতি বছরের শুরুতেই তনির দ্বিতীয় স্বামী শাহাদাৎ হোসাইন মারা যান। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে একাই নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘সানভিস বাই তনি’ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তনি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তার এই ফ্যাশন ব্র্যান্ডের ১২টি শোরুম রয়েছে।
স্বামীর মৃত্যুর এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ফের বিয়ের খবর সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, “এত দ্রুত কেন বিয়ে?” আবার অনেকেই বলেন, “একজন বিধবা নারীরও নতুনভাবে জীবন শুরু করার অধিকার আছে।”
এই সমালোচনার মাঝেই তনিকে সমর্থন জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন উদ্যোক্তা আফজার পরশিয়া। তিনি লিখেছেন,

“ব্যক্তিগতভাবে কাউকে কোনো রিপ্লাই দেওয়ার ইচ্ছা নেই। আপনাদের পরিবারে যখন কোনো মেয়ে বিধবা বা বিচ্ছেদ হয়, তখন কি চান না সেই মেয়েটা আবার সংসার করুক? তাহলে তনি কিছু করলেই এত খোঁচা দিতে হবে কেন? ওকে নিয়ে কথা বললে দুইটা ভিউ বেশি হয় এই জন্যে?”
“অনেকে বলছেন ভাইয়ার সংসার নষ্ট করে ও ভাইয়াকে বিয়ে করেছে। অথচ ভাইয়ার ছয় বছর আগেই ডিভোর্স হয়েছে। ওরা এখন একটি হালাল সম্পর্কে আছে। আমরা আসলে কেমন হয়ে গেছি—হালাল সম্পর্কের চেয়ে হারাম সম্পর্কগুলোকে বেশি অ্যাপ্রিসিয়েট করি।”
“যাদের ডিভোর্স হবে সব আমার দোষ।”
“আল্লাহর হুকুম ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না। আল্লাহর হুকুমেই তুমি একটি হালাল সম্পর্কে গেছো, এজন্য অনেকেই ঘুমাতে পারছে না।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তনির নতুন স্বামী হিসেবে যিনি আলোচনায় এসেছেন, তিনি সিদ্দিক নামে পরিচিত। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ও যুক্তরাজ্যের ডি মন্টফোর্ট ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা করেছেন। তার দেশের বাড়ি খুলনায়।
উল্লেখ্য, রোবাইয়াত ফাতিমা তনির প্রথম স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক টেকেনি। পরবর্তীতে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন ব্যবসায়ী শাহাদাৎ হোসাইনকে। বয়সের ব্যবধান ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তখনও তাঁকে ঘিরে চলেছিল বিতর্ক। তবুও তিনি সামাজিক মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানিয়ে আসছিলেন, “আমি যেমন, তেমনই থাকতে চাই। দিনশেষে শান্তিতে থাকতে পারলেই আমার স্বস্তি।”
ব্যক্তিগত জীবনের নানা উত্থান-পতন পেরিয়ে এখন তনি মনোযোগ দিচ্ছেন নিজের ব্যবসা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলায়। সামাজিক মাধ্যমে ট্রল বা সমালোচনা নিয়ে তার বক্তব্য স্পষ্ট
“মানুষের কথায় নয়, নিজের শান্তিতে বাঁচাই আসল জীবন।”